সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
পোস্ট সূচিপত্র : সৌদি আরবে প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
- কেন সৌদি আরবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে
- আবশের (Absher) অ্যাকাউন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ধাপগুলো
- জনপ্রিয় ব্যাংকগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- যাদের এখনো ইকামা হয়নি, তারা কী করবেন
- যেসব সমস্যায় প্রবাসীরা প্রায়ই পড়েন
- দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যা মাথায় রাখা দরকার
- যে বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ঝামেলা এড়ানো যায়
কেন সৌদি আরবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি
সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামা (SAMA)-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী দেশে আসার প্রথম তিন মাস পার হয়ে গেলে বা এর মধ্যে ইকামা পেয়ে গেলে, ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়া কোনো ব্যাংক তার নামে টাকা ট্রান্সফার, চেক ইস্যু কিংবা মুদ্রা বিনিময়ের সেবা দিতে পারবে না। অর্থাৎ ইকামা হাতে পাওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাটা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটা কার্যত বাধ্যতামূলক একটা ধাপ। এছাড়াও প্রায় সব কোম্পানি এখন কর্মীদের বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেয়, তাই অ্যাকাউন্ট ছাড়া বেতন তোলাও সম্ভব হয় না।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে
একজন বাংলাদেশি প্রবাসী হিসেবে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো লাগে:
- বৈধ ইকামা (আকামার মূল কপি ও ছবি)
- পাসপোর্টের কপি ।
- মোবাইল নম্বর, যেটা অবশ্যই ইকামার সাথে রেজিস্টার করা থাকতে হবে
- নিয়োগকর্তার (কফিল/কোম্পানি) পক্ষ থেকে একটি চিঠি, যেখানে চাকরির পদ, বেতন এবং ইকামা নম্বর উল্লেখ থাকে ।
- বাসস্থানের প্রমাণ, যেমন বাসা ভাড়ার চুক্তি বা ইউটিলিটি বিল ।
- ন্যাশনাল অ্যাড্রেস (জাতীয় ঠিকানা), যেটা সৌদি পোস্ট থেকে নেওয়া যায় ।
অনেক ব্যাংক শর্ত দেয় যে ইকামার মেয়াদ অন্তত তিন থেকে ছয় মাস বাকি থাকতে হবে। তাই ইকামার মেয়াদ শেষের দিকে থাকলে আগে রিনিউ করিয়ে তারপর ব্যাংকে যাওয়াই ভালো।
আবশের (Absher) অ্যাকাউন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরবের প্রায় সব ব্যাংকিং সেবা এখন সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আবশেরের সাথে যুক্ত। ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে আবশেরে নিজের প্রোফাইল অ্যাক্টিভেট করে রাখা প্রায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ব্যাংক আপনার পরিচয় ও ইকামার তথ্য যাচাই করে এই সিস্টেমের মাধ্যমেই।এখানে একটা সাধারণ ভুল অনেকে করে থাকেন—ইকামা হাতে পাওয়ার আগেই পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে আবশের রেজিস্টার করে ফেলেন। পরে ইকামা হাতে পেলে দেখা যায় সেই পুরনো আবশের প্রোফাইলের সাথে নতুন তথ্য মিলছে না, ফলে অ্যাকাউন্ট লক হয়ে যায় বা নতুন মোবাইল নম্বর দিয়ে আবার শুরু করতে হয়। তাই পরামর্শ থাকবে, ইকামা এবং সৌদি মোবাইল নম্বর—দুটোই হাতে আসার পরই আবশের রেজিস্ট্রেশন করা উচিত।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ধাপগুলো
১. সঠিক ব্যাংক বেছে নেওয়া
সৌদি আরবে কোন ব্যাংক বেছে নেবেন সেটা নির্ভর করে আপনার কর্মস্থলের কাছে কোন ব্যাংকের শাখা আছে, কোম্পানি কোন ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ (স্যালারি অ্যাকাউন্টের জন্য অনেক কোম্পানিই নির্দিষ্ট ব্যাংক ব্যবহার করে), এবং কোন ব্যাংকের অ্যাপ বা সার্ভিস আপনার জন্য সহজ মনে হয় তার ওপর।
২. শাখায় গিয়ে বা অনলাইনে আবেদন
দুইভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়—সরাসরি ব্যাংক শাখায় গিয়ে অথবা ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে।
শাখায় গিয়ে খুললে: ইকামা, পাসপোর্ট এবং নিয়োগকর্তার চিঠি সাথে নিয়ে নিকটস্থ শাখায় যেতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তা আপনার তথ্য যাচাই করে ফর্ম পূরণ করাবেন, বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) নেবেন এবং সই করাবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একই দিনে অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যায় এবং কয়েকদিনের মধ্যে এটিএম কার্ড হাতে পাওয়া যায়।
অনলাইনে খুললে: আল রাজি, এসএনবি বা রিয়াদ ব্যাংকের মতো বড় ব্যাংকগুলো আবশের-লিংকড অ্যাকাউন্ট দিয়ে সরাসরি মোবাইল অ্যাপ থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দেয়। এক্ষেত্রে আবশের অ্যাকাউন্ট সচল থাকা এবং ইকামার সাথে রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর থাকা আবশ্যক। প্রক্রিয়াটা সাধারণত এরকম—অ্যাপ ডাউনলোড করে ইকামা নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে লগইন করা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি আপলোড করা, ফেস ভেরিফিকেশন বা ওটিপি দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা। কিছু ব্যাংক সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনেই শেষ করে দেয়, আবার কিছু ব্যাংক সইয়ের জন্য বা কার্ড সংগ্রহের জন্য একবার শাখায় যেতে বলতে পারে।
৩. ন্যূনতম জমা ও শর্তাবলি
সৌদি আরবে সাধারণত অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কোনো ফি লাগে না এবং অনেক ব্যাংকে ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখারও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ব্যাংকভেদে এটা ভিন্ন হতে পারে, তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। কিছু ব্যাংকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের শর্তও থাকতে পারে, বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড বা বিশেষ সুবিধাযুক্ত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে।
জনপ্রিয় ব্যাংকগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সৌদি আরবে যেসব ব্যাংকে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি অ্যাকাউন্ট খোলেন, তাদের একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া যাক—যাতে বেছে নিতে সুবিধা হয়।
আল রাজি ব্যাংক (Al Rajhi Bank): সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ইসলামিক ব্যাংক এটা। শাখার সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রায় সব শহরেই এর উপস্থিতি আছে। মোবাইল অ্যাপটা তুলনামূলক ব্যবহারবান্ধব, তাই নতুন প্রবাসীদের একটা বড় অংশ প্রথম পছন্দ হিসেবে এই ব্যাংককেই বেছে নেন।
সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক (SNB): এটা দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোর একটা, দুইটা বড় ব্যাংক একীভূত হয়ে তৈরি হয়েছে। কর্পোরেট বেতন অ্যাকাউন্টের জন্য অনেক বড় কোম্পানি এই ব্যাংককে বেছে নেয়, তাই অনেক প্রবাসীর অ্যাকাউন্ট এমনিতেই এখানে খোলা হয়ে যায়।
রিয়াদ ব্যাংক (Riyad Bank): পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার দিক থেকেও বেশ এগিয়ে। অনলাইনে সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা এখানে ভালোভাবেই পাওয়া যায়।
বাংক আলবিলাদ ও আল-ইনমা ব্যাংক: পুরোপুরি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা দেয়। এই দুটো ব্যাংকেও প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট খোলা তুলনামূলক সহজ এবং সার্ভিস চার্জও কম বলে অনেকে জানান।
জনতা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সৌদি শাখা: এগুলো মূলত বাংলাদেশি ব্যাংক, যেগুলো বিশেষভাবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সেবার জন্যই সৌদি আরবে শাখা খুলেছে। এখানে বাংলায় কথা বলে কাজ সারা যায় এবং দেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও সরাসরি ও তুলনামূলক দ্রুত। যারা প্রথমবার প্রবাসে এসেছেন এবং আরবি বা ইংরেজিতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ না, তাদের জন্য এই শাখাগুলো বেশ স্বস্তিদায়ক একটা অপশন।
কোন ব্যাংক সবচেয়ে ভালো তার কোনো এক কথায় উত্তর নেই—আসলে যেটা আপনার এলাকায় সহজলভ্য, যেটাতে কোম্পানি বেতন দেয় বা যেটার সার্ভিস আপনার কাছে ভালো লাগে, সেটাই আপনার জন্য সঠিক বেছে নেওয়া।
যাদের এখনো ইকামা হয়নি, তারা কী করবেন
নতুন আসা অনেক প্রবাসীর ইকামা তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এই সময়ে সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্ট না খোলা গেলেও কিছু ব্যাংক সাময়িক বা সীমিত সুবিধার অ্যাকাউন্ট দেয়, যেখানে পাসপোর্ট, ওয়ার্ক ভিসা এবং কোম্পানির চিঠি দিয়ে আবেদন করা যায়। তবে এই ধরনের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সীমা থাকে এবং ইকামা হাতে পাওয়ার পরপরই তা পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাউন্টে আপডেট করাতে হয়।
যেসব সমস্যায় প্রবাসীরা প্রায়ই পড়েন
আবশের ও ইকামার তথ্য না মেলা: আগেই বলা হয়েছে, পাসপোর্ট দিয়ে আগে রেজিস্টার করা আবশের প্রোফাইল পরে ইকামার সাথে না মিললে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে নিকটস্থ আবশের সেন্টার বা মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে নম্বর ঠিক করে নেওয়া লাগতে পারে।
হঠাৎ কার্ড বা অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়া: সৌদি আরবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যাংকিং লেনদেনে বেশ কড়া নজরদারি আছে। একই অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ লেনদেন, ঘন ঘন বড় অঙ্কের টাকা জমা-উত্তোলন, বা অন্যের নামে টাকা লেনদেন করলে ব্যাংক সন্দেহজনক মনে করে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিতে পারে। তাই নিজের অ্যাকাউন্ট অন্য কারও লেনদেনের জন্য ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া: ইকামা রিনিউ না হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও সাময়িকভাবে ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে। তাই ইকামা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।
ভাষাগত জটিলতা: আরবি ভাষায় অভ্যস্ত না হওয়ায় অনেকে ফর্ম পূরণ বা শর্তাবলি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা বা বাংলা-ইংরেজি বলতে পারা স্টাফ আছে এমন শাখা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।
দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যা মাথায় রাখা দরকার
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার একটা বড় উদ্দেশ্যই থাকে দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো। এক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখা ভালো:
- সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি এনজাজ, টেলিমানি বা অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়, যেগুলোতে অনেক সময় খরচ কম পড়ে ।
- সবসময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ সেন্টার ব্যবহার করা উচিত, অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ।
- বাংলাদেশি ব্যাংকের সৌদি শাখা থেকে সরাসরি দেশের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো তুলনামূলক দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হয় ।
- এয়ারপোর্ট বা যেকোনো জায়গার এক্সচেঞ্জ রেটের তুলনা করে নেওয়া ভালো, কারণ ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজভেদে রেটে পার্থক্য থাকে ।
যে বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ঝামেলা এড়ানো যায়
- অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ইকামার মেয়াদ পর্যাপ্ত সময় বাকি আছে ।
- ইকামা হাতে পাওয়ার পরই আবশের রেজিস্ট্রেশন করুন, পাসপোর্ট দিয়ে আগে থেকে করা থাকলে সেটা আপডেট করে নিন ।
- কোম্পানির চিঠি ও বেতনের কাগজপত্র সবসময় হালনাগাদ রাখুন ।
- মাসিক লেনদেনে বড় কোনো পরিবর্তন হলে ব্যাংককে আগে থেকে জানিয়ে রাখা ভালো, বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা জমা বা তোলার ক্ষেত্রে ।
- নিজের ডেবিট কার্ডের পিন এবং ওটিপি কারও সাথে শেয়ার করবেন না, প্রতারণা এড়াতে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ।
- অ্যাকাউন্ট বা কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় দ্রুত ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন, দেরি করলে সমস্যা জটিল হতে পারে ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইকামা ছাড়া কি সৌদি আরবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়? সাধারণভাবে না। ইকামাই হলো প্রবাসী হিসেবে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার মূল পরিচয়পত্র। তবে একদম নতুন আসা কর্মীদের জন্য কিছু ব্যাংক পাসপোর্ট ও ওয়ার্ক ভিসা দিয়ে সীমিত সুবিধার একটা অ্যাকাউন্ট দেয়, যেটা পরে ইকামা পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করতে হয়।
অ্যাকাউন্ট খুলতে কত সময় লাগে? শাখায় গিয়ে সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে সাধারণত একই দিনে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে যায়। এটিএম কার্ড হাতে পেতে সাধারণত কয়েকদিন থেকে এক সপ্তাহ সময় লাগে। অনলাইনে আবেদন করলে কখনো কখনো আরও দ্রুত হয়, তবে আবশের ঠিকভাবে সেটআপ করা থাকতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খুলতে কি কোনো ফি দিতে হয়? বেশিরভাগ ব্যাংকেই সাধারণ সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো ফি লাগে না। তবে কিছু বিশেষ সুবিধাযুক্ত অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে চার্জ থাকতে পারে, তাই খোলার আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো।
একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় কি? হ্যাঁ, একজন প্রবাসী চাইলে একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। অনেকে একটা অ্যাকাউন্ট বেতনের জন্য আর আরেকটা বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখায় শুধু টাকা পাঠানোর জন্য আলাদা করে খোলেন।
ইকামা রিনিউ হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কি কিছু আপডেট করতে হয়? হ্যাঁ, ইকামা রিনিউ হওয়ার পর নতুন মেয়াদ ব্যাংকের সিস্টেমে আপডেট হওয়া দরকার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা আবশেরের মাধ্যমে অটোমেটিক আপডেট হয়ে যায়, তবে মাঝেমধ্যে ব্যাংকে গিয়ে বা কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো, বিশেষ করে যদি লেনদেনে কোনো সমস্যা দেখা দেয়।
চাকরি পরিবর্তন করলে আগের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কি ব্যবহার করা যাবে? সাধারণত যাবে, তবে নতুন কফিল বা কোম্পানির তথ্য দিয়ে ব্যাংককে আপডেট জানানো ভালো। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক নতুন করে নিয়োগকর্তার চিঠি চাইতে পারে, বিশেষ করে যদি বেতন অ্যাকাউন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলে কী করতে হবে? সৌদি মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলে সেটা প্রথমে আবশেরে আপডেট করতে হবে, তারপর ব্যাংক অ্যাপ বা শাখায় গিয়ে ব্যাংকের রেকর্ডেও হালনাগাদ করতে হবে। নম্বর আপডেট না করলে ওটিপি না পাওয়ায় অনলাইন লেনদেনে সমস্যা হতে পারে।
দেশে টাকা পাঠাতে সর্বনিম্ন কত সময় লাগে? ব্যাংক ট্রান্সফারে সাধারণত এক থেকে তিন কর্মদিবস সময় লাগে, তবে অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউজ ব্যবহার করলে অনেক সময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকা পৌঁছে যায়। কোন মাধ্যম বেছে নেবেন তা নির্ভর করে জরুরি প্রয়োজন আর খরচের হিসাবের ওপর।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে কার সাথে যোগাযোগ করব? প্রতিটা ব্যাংকেরই একটা কাস্টমার কেয়ার হটলাইন থাকে, যেটা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। জরুরি সমস্যায় (যেমন কার্ড হারিয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক লেনদেন) দ্রুত হটলাইনে ফোন করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ, দেরি করলে ক্ষতি বাড়তে পারে।
মহিলা প্রবাসীদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মে কি কোনো পার্থক্য আছে? মূল প্রক্রিয়া একই থাকে—ইকামা, পাসপোর্ট এবং নিয়োগকর্তার চিঠি লাগবে। তবে অনেক ব্যাংকে এখন নারী গ্রাহকদের জন্য আলাদা কাউন্টার বা নারী স্টাফ দিয়ে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, যা প্রক্রিয়াটাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।
একবার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্লক হলে আবার চালু করা যায় কি? সাধারণত যায়, তবে কারণের ওপর নির্ভর করে। যদি ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বা ডকুমেন্টের ঘাটতির কারণে ব্লক হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আপডেট করে শাখায় গিয়ে পুনরায় সক্রিয় করা যায়। তবে সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে ব্লক হলে ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স বিভাগের অনুমোদন লাগতে পারে, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
সবশেষে বলা দরকার, ব্যাংক নীতিমালা মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়, তাই সবচেয়ে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের জন্য নিজের ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা শাখায় সরাসরি খোঁজ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।
শেষ কথা : সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
সৌদি আরবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের তুলনায় আসলে বেশ সহজ এবং অনেকটা ঝামেলামুক্ত, যদি সঠিক কাগজপত্র হাতে থাকে এবং নিয়মগুলো আগে থেকে জানা থাকে। ইকামা, পাসপোর্ট, নিয়োগকর্তার চিঠি এবং একটা সচল আবশের প্রোফাইল—এই কয়েকটা জিনিস প্রস্তুত থাকলে যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে একদিনেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা সম্ভব। নতুন প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ থাকবে, তাড়াহুড়া না করে প্রথমেই আবশের ঠিকভাবে সেটআপ করে নেওয়া এবং নিজের কোম্পানি বা সহকর্মীদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া তাদের এলাকায় কোন ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। এতে অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে পরবর্তীতে দেশে টাকা পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটাই অনেক সহজ হয়ে যাবে।




আপনার মতামত জানান পোস্টটি কেমন লাগলো? কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। আপনার মূল্যবান মতামত HowToBlend-কে আরও ভালো করতে সাহায্য করবে।
comment url